বিজ্ঞাপন

আমাকে হাজতে ভরেন, আমি বালতির পানিতে চুবিয়ে আরশিকে মেরেছি

আমাকে হাজতে ভরেন, আমি বালতির পানিতে চুবিয়ে আরশিকে মেরেছি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আরশি আক্তার নামে আড়াই বছরের এক শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর আসামি নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশকে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার রাজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ইশরাত জাহান শীম (১৪) ওই এলাকার আবু কালামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নিহত আরিশা আক্তার (২) রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা আকাশ শেখের মেয়ে। তার বাবা-মা গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত কিশোরী নিজেই থানায় এসে বিষয়টি জানায় এবং বলে আমাকে হাজতে ভরেন, আমি বালতির পানিতে চুবিয়ে আরশিকে মেরে ফেলেছি। পরে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে শীম জানায়, তার মা ছোট্ট আরিশাকে বেশি আদর করতেন। এছাড়া শিশুটি বারবার তার কাছে বিস্কুট চাইছিল। এর কিছুক্ষণ পর আরশিকে টিউবওয়েল পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে থাকা একটি বালতি পানি দিয়ে ভরে পরে আরশি আক্তারকে পা ধরে উল্টো করে প্রায় পাঁচ মিনিট পানিতে চুবিয়ে রাখে অভিযুক্ত শীম।

নিহতের বাবা আকাশ শেখ জানান, তিনি বাড়ি থেকে কিছু সময়ের জন্য কারখানায় গিয়েছিলেন বলে জানান। ফিরে এসে দেখেন তার মেয়ে ও বাড়িওয়ালার মেয়ে একসঙ্গে খেলছে। এমনকি সে তার মেয়ে আরশিকে টোস্ট বিস্কুটও খেতে দিয়েছিলেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর মেয়েকে আনতে গিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজির করে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে বালতির ভেতরে তাকে পাওয়া যায়। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ইমরান হোসেন জানান, দুপুর ১টার দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত কিশোরীর বক্তব্যসহ সব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্ত কিশোরীর বয়স ১৪ বছর। সেহেতু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

আশিকুর রহমান/এমএন

বিজ্ঞাপন