বিজ্ঞাপন

যমজ কন্যাসন্তানের জন্মের পর তালাকের অভিযোগ, দুই শিশুকে নিয়ে অসহায় মা

যমজ কন্যাসন্তানের জন্মের পর তালাকের অভিযোগ, দুই শিশুকে নিয়ে অসহায় মা

কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া কোনো অপরাধ নয়, অথচ যমজ কন্যাসন্তানের জন্মের পর স্ত্রীকে তালাকনামা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নতুন কোলা গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গৃহবধূ রিনা খাতুন, এখন ছয় মাস বয়সী দুই কন্যাশিশু— নৌরিন ও মেহেরীনকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে মহেশপুর উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামের রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে রিনা খাতুনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের একপর্যায়ে রিনা যমজ সন্তানের গর্ভধারণ করেন। পরিবারের দাবি, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত স্বামী, স্ত্রী ও অনাগত সন্তানদের খোঁজখবর নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে রিনা যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু, কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার বিষয়টি স্বামী ও তার পরিবার মেনে নিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে রাকিবুল ইসলাম তার স্ত্রীর কাছে তালাকনামা পাঠান।

রিনা খাতুন বলেন, বুকের দুধের পাশাপাশি দুই শিশুর পুষ্টির জন্য টিনজাত দুধ কিনতে হয়। মাসে অন্তত ১২ কৌটা দুধ লাগে, প্রতিটি কৌটার দাম ৮৬০ টাকা। শুধু দুধ কিনতেই মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি প্রয়োজন হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে আমার দুই মেয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দুধ কিনে দিতে পারছি না।

কাজীরবেড় ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, শুধু কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণেই তালাকের ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি এমন নয়। ছেলেপক্ষ আগে থেকেই যৌতুক দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরে জমজ কন্যাসন্তানের জন্মকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়ার একটি উপলক্ষ্য তৈরি হয়। তবে রিনা এখনো তালাকনামায় স্বাক্ষর করেননি, ফলে বিষয়টির আইনগত প্রক্রিয়াও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

তিনি আরও জানান, কোনো আয়-রোজগারের ব্যবস্থা না থাকায় রিনা খাতুন দুই শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিশুদের মাসিক দুধের খরচ জোগাড় করাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দুই অবুঝ শিশুর খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এই মা। আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের চাহিদা পূরণ করতেও তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। আমরা দুই পক্ষের সাথে আলোচনা চলমান রেখেছি। আইনের মধ্যে একটি  সুন্দর সমাধানের চেষ্টা করছি।

সম্রাট হোসেন/জেআই/এমএন

বিজ্ঞাপন