গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বনের ভেতর গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানায় ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য। এমন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে স্থানীয় লোকজন রুখে দাঁড়ালেও প্রতিকার মিলছে না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জাথালিয়া, মজিদচালা ও মৌচাক ইউনিয়নের কাচারস এলাকায় সবুজে ঘেরা বনায়নের ভেতর গড়ে ওঠা নামবিহীন দুটি কারখানায় কয়লার মাধ্যমে পুরাতন ব্যাটারি পুড়ানো হয়। যা থেকে তৈরি হচ্ছে সীসা। এ থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও এসিড মিশ্রিত ব্যাটারি পুড়ানোর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকার জীব বৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকিতে পড়ছে। দেখা দিয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।
জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মজিদচালা এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে কারখানাটি। প্রত্যন্ত বনের ভেতরে হওয়ায় সেখানে তেমন একটা নজরদারি নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। যার ফলে বছরের বিভিন্ন সময় ওই কারখানায় গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে মবিল, ব্ল্যাক অয়েল, আর ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়ে থাকে। আর এসবের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে শালবন ও সামাজিক বনায়নসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, মৌচাক ইউনিয়নের কাচারস গ্রামে সালাম সরকার নামে এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে গড়ে উঠেছে অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাতভর পুরাতন ব্যাটারি পুড়ানো হয় সেখানে। এতে ওই এলাকাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। গাছের পাতায়, টিনের চালে দেখা দিচ্ছে কয়লা সাদৃশ্য পদার্থ। এতে চরম ঝুঁকিতে অঞ্চলটি।
তবে অনেক চেষ্টা করেও সালাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সাজ্জাদ হোসেন নামে এক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, কয়েকদিন ধরে কারখানাটি চলেছে। সারাদিন আমরা খাটুনির পর রাতে এসে এর দুর্গন্ধের কারণে খাবার খেতে পারিনা। রাতে ঘুমালেও নিঃশ্বাসের সঙ্গে পোড়া দুর্গন্ধ দেহের ভেতর প্রবেশ করে।
মৌচাক ইউনিয়নের বাশতলী গ্রামের বাসিন্দা আল আমুন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কালো ধোঁয়া উড়তে থাকে। এতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। আর পোড়া গন্ধে খুব খারাপ অবস্থা হয়ে যায় আমাদের। আমরা এর জন্য এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিবাদও করেছি। কিন্তু মালিক কাউকে পরোয়া করে না।
জাথালিয়া গ্রামের জহিরুল হক নামে এক গৃহকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, কারখানাটিতে মাঝে মধ্যেই কয়েকজন লোক আসে। রাতে গাড়ি দিয়ে মালামাল আনা নেওয়া করে। চারপাশে দেয়াল তোলা, একটি গেট আছে সেটা বন্ধ করে তারা কাজকর্ম করে। যতক্ষণ কারখানা চলে আমরা শান্তি মতো খাবার খেতে পারি না। নিঃশ্বাস নিতে পারি না, সকালে উঠে ঘরের চালে কালো কয়লার মতো কিছু একটা জমে থাকে। চারপাশে দুর্গন্ধে ভরে যায়।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মোতালেব মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ অঞ্চলের এতোদিন মানুষ বুক ভরে সতেজ নিশ্বাস গ্রহণ করলেও এমন দুটি কারখানার এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই এসব পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ হোক। এছাড়া বেশিরভাগ মানুষ কৃষক। তাদের বড় একটি অংশ ক্ষতির মুখে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কারখানার কোনো অনুমোদন হয় না। আর বন বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কার্যক্রম পুরোপুরি নিষেধ। কারখানা দুটির সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে অতি দ্রুত আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আশিকুর রহমান/আরকে
