বিজ্ঞাপন

দুই দিনের রিমান্ডে শিবির নেতা জিসান

দুই দিনের রিমান্ডে শিবির নেতা জিসান

ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে থাকা ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২১ জুন) দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার আদালতে সদ্য বহিষ্কৃত শিবির নেডা জিসানের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালত জিসানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন রাত থেকে নিখোঁজ হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি নিখোঁজ হন বলে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরদিন শুক্রবার (১৩ জুন) রাত ৮টা-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুজন মোবাইলে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গত শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। 

এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত রোববার (১৪ জুন) জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে চার সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন জমা দিলে মঙ্গলবার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

আরিফ আজগর/আরএআর

বিজ্ঞাপন