ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি পুলিশের পিটুনিতে অসুস্থ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ওই যুবককে আটক করে ডিবি। পরিবারের অভিযোগ, আটকের সময় তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং সেই নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মৃত যুবকের নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা মৃত এসকেন হায়দারের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক অবিবাহিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির সামনে থাকা অবস্থায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে এসে ইশতিয়াককে আটক করে।
ইশতিয়াকের মামা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আটকের সময় ডিবির ১২-১৩ জন সদস্য তাকে মারধর করেন। মা বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এরপর পুলিশ বাড়িতে ঢুকে প্রতিটি কক্ষ তছনছ করে এবং ইশতিয়াককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার জানান, আটকের সময় তার ছেলের কাছে বা বাড়িতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ তিন পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে বলে তিনি শুনেছেন।
হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো, আমি এ হত্যার বিচার চাই।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতভর মধুখালী থানা ও ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও ইশতিয়াকের কোনো খোঁজ পাননি তারা। পরে আজ রোববার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর খবর পান।
এ অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মো. আহাদুজ্জামান ও এসআই মো. মোতাহার আলীর নেতৃত্বে অংশ নেন এএসআই মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মনিরুজ্জামান, ফরহাদ হোসেন মিয়া, রাকিব মোল্লা সুফিয়ান, রকিবুল ইসলাম ও নারী কনস্টেবল চম্পা হালদার। গাড়িচালক ছিলেন মো. সবুজ মোল্লা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় মাদকসহ ইশতিয়াককে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়। রাত ৩টার দিকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন এবং নাস্তা গ্রহণ করেন। ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
ইশতিয়াককে আটকের পর মারধর করা হয়নি দাবি করে ডিবির ওসি বলেন, তার সঙ্গে ডিবি পুলিশ অত্যন্ত সুন্দর ও অমায়িক ব্যবহার করেছেন, তাকে নাশতা খাইয়েছেন।
মধুখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, মাদকসহ আটক ইশতিয়াককে পুলিশ হেফাজতে রাখা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পুলিশের হেফাজতে তাকে আঘাত করা বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারপরও বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে।
জহির হোসেন/আরএআর
