বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধিতে ধসে পড়েছে বাঁধের অংশ, ভাঙন আতঙ্ক

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধিতে ধসে পড়েছে বাঁধের অংশ, ভাঙন আতঙ্ক

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব বাহুকা এলাকায় যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন থেকে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও প্রবল স্রোতের কারণে কয়েকটি এলাকায় তীররক্ষা বাঁধের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় পানির উচ্চতা দুই সেন্টিমিটার বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোক্তাল হোসেন জানান, শনিবার দুপুরে তিনি বাঁধসংলগ্ন জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ দেখেন নদীপাড়ের ব্লকগুলো ভেঙে নিচের দিকে নামছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের মানুষ সেখানে ভিড় করেন। তাদের অনেকের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, নদী আগেই তার বাড়িঘর গ্রাস করেছে। এখন কোনো রকমে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে আছেন। আবার ভাঙন শুরু হলে কোথায় যাবেন, সেটিই ভাবাচ্ছে তাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট জমিজমাও নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খবর পেয়ে শনিবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। রোববার সকাল থেকে ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে তারা জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নদীর পানি ওঠানামার কারণে পূর্ব বাহুকা এলাকার তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাজমুল হাসান/আরএআর

বিজ্ঞাপন