শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বাতকুচি গ্রামটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা খরস্রোতা চেল্লাখালী নদীর অর্ধেক অংশ পাহাড়ি এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। বর্ষা মৌসুমে নদীটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে ২০২২ সালে পাকা সড়কের প্রায় ৪০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সীমান্তবর্তী বাতকুচি গ্রামটি পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মাঝামাঝি অবস্থানে। ইউনিয়ন পরিষদ পশ্চিম প্রান্তে হওয়ায় আগে এই সড়ক দিয়েই পুরো ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করতেন। বর্তমানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সেই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে পূর্ব পাশের বারোমারী বাজারের সঙ্গেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গ্রামটি। বাজার ও গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত চেল্লাখালী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেরপুরের সবচেয়ে বড় বন্যা এটি ভেঙে যায়। এরপর গত ১২ জুন রাতের পাহাড়ি ধলে আরও বেশি ভেঙে যায়। এরপর থেকে পুরো পুরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সাপ্তাহিক হাটবাজার করা থেকে শুরু করে নিজেদের উৎপাদিত ধান ও সবজি বাজারে নেওয়াও এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পূর্ব দিকের ইউনিয়নবাসীকে এখন প্রায় চার কিলোমিটার ঘুরে পরিষদে যেতে হয়, যেখানে আগে মাত্র দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। নদীতে সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পলাশীকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, পলাশীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেন আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বেগম রৌশন আরা একাডেমিতে যেতে পারে না। পাহাড়ি ঢল নামলে পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে নন্নী হয়ে কিংবা বুরুঙ্গা সীমান্ত সড়ক দিয়ে যেতে হয়। তবে ওই সড়কে বন্যহাতির আতঙ্ক থাকায় সন্ধ্যার পর চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ২০২২ সালে পাহাড়ি ঢলে রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। বাড়ি থেকে বের হওয়া বা ফসল ঘরে তোলা—সবই কঠিন হয়ে গেছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার না করলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
আরেক বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, আমরা কৃষিনির্ভর মানুষ। ধান-সবজি উৎপাদন করেও বাজারে নিতে পারি না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এবারের বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘টিম’- এর সভাপতি রকুনুজ্জামান সেলিম বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আশপাশের তিন-চার গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এটি ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার প্রধান সড়ক ছিল। দ্রুত সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।
এলজিইডির নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী অন্তুবল বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও চেল্লাখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।
নাইমুর রহমান তালুকদার/আরএআর
