দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পিরোজপুরবাসীর জন্য উম্মুক্ত হতে যাচ্ছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেলা হাসপাতাল। লিফট ও স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ভবনের প্রথম চারটি ফ্লোরে (তলা) চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটি পুরোদমে চালু হলে পিরোজপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। ফলে সামান্য জটিলতাতেই খুলনা বা বরিশালে ছুটে যাওয়ার ভোগান্তি এবং আর্থিক অপচয় অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় লোকজন।
১৯৮৪ সালে মাত্র ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতালটি ধাপে ধাপে ১০০ শয্যায় রূপান্তর হলেও বাড়েনি সেবার মান। বর্তমানে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী থাকায় হাসপাতালের বারান্দা ও হাঁটার রাস্তায় শয্যা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক সময় এক বিছানায় একাধিক রোগীকেও গাদাগাদি করে থাকতে হয়, যা জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে নিয়ে ঠেকিয়েছে। স্থান স্বল্পতা ও রোগীর উপচেপড়া ভিড়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
২০১৭ সালে ৯তলা বিশিষ্ট এই আধুনিক হাসপাতালটি নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। করোনা মহামারির কারণে সময়মতো কাজ শেষ না হলেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় মরিয়ম আক্তার নামে একজন বলেন, আমাদের হাসপাতালে ডাক্তার কম, তার চেয়েও বড় সমস্যা সিটের অভাব। সামান্য কিছু হলেই খুলনা অথবা বরিশাল পাঠিয়ে দেয়। এখানে ভালো চিকিৎসা হয় না। আমাদের পিরোজপুরবাসীর চাওয়া দ্রুত এই হসপিটালটি চালু হোক। এখানে আমরা সাধারণ রোগীরা আসি, জায়গা ও সিট অল্প থাকার কারণে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বড় হাসপাতালটি চালু হলে পর্যাপ্ত সিট পাওয়া যাবে, খোলামেলা জায়গা পাওয়া যাবে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সুশান্ত মুখার্জি বলেন, হাসপাতালটি চালু হওয়া আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। পিরোজপুরসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা নিতে যে ভোগান্তিটা হয় তা কিছুটা হলেও কমে আসবে।
পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, সিভিল সার্জনের চাহিদ মোতাবেক চলতি মাসের মধ্যেই চারতলা পর্যন্ত বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বিদেশে লিফট তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী অক্টোবরের মধ্যে দেশে পৌঁছালে স্থাপন করা হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, হাসপাতালের প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ। বিদ্যুৎ সংযোগ ও আসবাবপত্রের (ফার্নিচার) জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে প্রাথমিক সেবা শুরু করার পর লিফট চলে এলে ৯তলা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর সুমন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। লিফটের জন্য অপেক্ষা না করে প্রাথমিকভাবে চারটি ফ্লোরে যেন দ্রুত চিকিৎসাসেবা শুরু করা যায়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দ্রুতই হাসপাতালটি পুরোদমে চালু হবে এবং জেলার লাখো মানুষ ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন- এমনটাই এখন পিরোজপুরবাসীর প্রত্যাশা।
এএমকে
