বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যা : অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে বহিষ্কার

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যা : অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে বহিষ্কার

গাইবান্ধার সাঘাটায় বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে গাইবান্ধা জেলা যুবদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত জানা গেছে। গতকাল রাতে জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টো ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোকলেছুর রহমান মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

নিহত সাইফুল্লাহ বারী একই ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি ওই ইউনিয়নের শিমুলতাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুরের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল কুরআন বিভাগের (তৃতীয় বর্ষের) ছাত্র ছিলেন।

জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলেও ও বিজ্ঞাপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না উল্লেখ করে যুবদলের সব পর্যায়ের কর্মীদের অভিযুক্তদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এর আগে গতকাল ঘটনার পর জেলা যুবদলের সভাপতি রাগীব হাসান চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে জানান, অভিযুক্ত মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। অনৈতিক কোনো কাজ এবং দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে স্থানীয় উপজেলা যুবদলের নেতারা তাকে বহিষ্কার করেছে। বর্তমানে যুবদলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টু ঢাকা পোস্টকে বলেন, গাইবান্ধার জেলা যুবদল কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, ঘটনাটি তাদের পারিবারিক বিষয়ের সূত্র ধরে ঘটেছে। এখানে রাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত নেই। আর ব্যক্তিগত কোনো বিষয় বা পারিবারিক কোনো ঘটনার দায়ভার দল নেবে না। 

প্রসঙ্গত, রোবাবর (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এসময় প্রতিপক্ষরা লোহার শাবল দিয়ে শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর গলায় আঘাত করলে গলা কেটে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একই সময় সাইফুল্লাহ বারীর বন্ধু সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করেন প্রতিপক্ষরা। পরে স্বজনরা সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে, গুরতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও শারীরিক পরিস্থির উন্নতি না হলে গতকাল রাতেই তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। তিনি একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ।

মাসুম বিল্লাহ/আরকে

বিজ্ঞাপন