কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় প্রকাশের দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানোর পর এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসান দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দুদক প্রধান কার্যালয় জমা দেন।
দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে এমপি আমির হামজা দাবি করেন- কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য তাকে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার এ বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক সংসদ সদস্য আমির হামজাকে ঘুষ প্রদানের প্রস্তাব প্রদান একটি গুরুতর দুর্নীতিমূলক অপরাধ, যা রাষ্ট্র ও জনস্বার্থের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক যুক্ত। কিন্তু সংসদ সদস্য আমির হামজা উক্ত বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট ঘুষ প্রস্তাবদাতাদের পরিচয়, সময়, স্থান ও পদ্ধতি বা অন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রদান করা হয়নি এবং বিষয়টি সম্পর্কে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্ত হয়নি।
আবেদনে আরও বলা হয়, এমন গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পরও কারা এ ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল, তাদের পরিচয় কিংবা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান বলেন, চলতি বছরের ১ এপ্রিল সংসদ সদস্য আমির হামজাকে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এমপি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ অথবা তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় তদন্তের স্বার্থে দুদকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে এমপি মুফতি আমির হামজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
রবিউল আলম ইভান/আরএআর
