বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ীতে সংঘর্ষে নিহতের জেরে শতাধিক বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর

রাজবাড়ীতে সংঘর্ষে নিহতের জেরে শতাধিক বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে জামিন বিশ্বাস (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর শতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার (২১ জুন) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের মৃত হোসেন আলী বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাংশা উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট গ্রামের হাকিম মণ্ডলের সঙ্গে ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের বাসিন্দাদের জমি মাপজোখ নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। 
এ সময় জামিন বিশ্বাসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জামিন বিশ্বাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের লোকজন দড়িবাংলাট, বড় বাংলাট ও পারকুল এলাকায় গিয়ে শতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৮০০ লোক হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র, টেলিভিশন, ফ্রিজ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ গবাদিপশু নিয়ে গেছে। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় অনেক পরিবার তাদের গৃহস্থালির সামগ্রী ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের জেরে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু একপর্যায়ে তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে ঘর ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরএআর

বিজ্ঞাপন