মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় আবারও বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্রের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এক রাতেই কৃষকদের ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় চলতি মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে জমিতে সেচ দিতে গিয়ে ট্রান্সফরমারগুলো না দেখে কৃষকরা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চেংগাড়া এলাকার ধর্মচাকী মাঠে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান ও আনারুল ইসলাম এবং চেংগাড়া গ্রামের আব্দুল গনি, মফিজুল ইসলাম ও মকবুল হোসেনের সেচ সংযোগে ব্যবহৃত মোট ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, এখন ধান ও অন্যান্য ফসলের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ায় সেচ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ফসল ক্ষতির মুখে পড়বে।
কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বারবার একই ঘটনা ঘটছে।
আব্দুল গনি জানান, একটি ট্রান্সফরমারের দাম অনেক বেশি। নতুন ট্রান্সফরমার কিনে সংযোগ চালু করতে আমাদের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হবে। কৃষকদের পক্ষে এ ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন।
কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চক্র এসব চুরি করছে। মাঠে নিরাপত্তা জোরদার না হলে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এদিকে একসঙ্গে ৬টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা মাঠ এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং ট্রান্সফরমার চোর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
মাহাবুল ইসলাম/এমএন
