ভোলার লালমোহনে বালুভর্তি ট্রাক নিয়ে একটি পুরোনো আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে পড়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. নাঈম নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, গুরুত্বর আহত হেলপার আলামিনকে (১৪) উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ জুন) দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর উমেদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
নিহত নাইম উপজেলার ধলীগৌনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ফরিদের ছেলে। আর আহত আলামিন একই গ্রামের ভুট্টোর ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর উমেদ গ্রামের ও পার্শ্ববর্তী ধলীগৌড়নগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর মোল্লাদি গ্রামের ওপর বহু বছর আগে নির্মিত আয়রন ব্রিজটির ওপর দিয়ে ট্রাকে বালু ভর্তি করে চর মোল্লাদি গ্রামের দিকে যাচ্ছিল ট্রাকটি। ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে হটাৎ ভেঙে খালে পড়ে যায়। এ সময় গুরুতর আহত ট্রাকচালক ও হেলপারকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ট্রাকচালক নাইমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং হেলপার আলামিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু তাহের ও তুহিন বলেন, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় ছিল, কিন্তু ট্রাকচালকের অসাবধানতায় কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। লালমোহন উপজেলা শহরের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ব্রিজটি, এখন ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ায় আমাদের সহজ যোগাযোগের মাধ্যমটি বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া, উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আরেকটা ব্রিজের দাবিও জানান তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক নুর আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গুরুতর আহত ট্রাকচালককে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন এবং হেলপার আলামিন চিকিৎসাধীন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
মো. খাইরুল ইসলাম/এএমকে
