খুলনায় মাদরাসাছাত্র ইসমাইল শিকদার (৯) নামের এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাতে শিশুর বাবা ওমর ফারুক শিকদার বাদী হয়ে হাফেজ আবদুর রহমান নামের ওই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তবে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে, গত ১৭ জুন রাতে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকার নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমিতে ইসমাইল শিকদার নামের এক শিশুকে বেদম পেটানোর অভিযোগ ওঠে শিক্ষক হাফেজ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। শিশুটির মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিকে রক্ত জমাট বেঁধেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে চোখের নিচে, মুখে ও গলার নিচে রক্ত জমাট বেঁধেছে।
ভুক্তভোগী শিশু ইসমাইল শিকদারের বাড়ি সরকারি কলেজের (প্রাক্তন জয় বাংলা কলেজ) পাশে। বাবা ওমর ফারুক শিকদারের মুদি দোকানের ব্যবসা রয়েছে। একমাত্র সন্তানকে কোরআনের হাফেজ বানাতে গতবছর শিশুটিকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দুইতলা ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে বছর দুয়েক আগে নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ আবদুর রহমান। কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে চালু এই মাদরাসায় হেফজ, নাজেরা ও শুনানি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। সেখানে ২০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সবার বয়স ৮ থেকে ১৭ বছরের ভেতরে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ জুন রাতে পড়া না পাড়ায় মাদরাসার ভেতরে ওই শিশুকে বেদম মারপিট করেন শিক্ষক আবদুর রহমান। এতে শিশুটির মস্তিষ্ক, চোখসহ বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বেধে যায়। সংবাদ পেয়ে আমরা ওই মাদরাসায় যাই। প্রথম দিনে শিশুটির বাবা মামলা করতে রাজি হননি। পরে মামলা করেছেন। ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
মোহাম্মদ মিলন/এএমকে
