বিজ্ঞাপন

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা, ৯ দিনেই ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা, ৯ দিনেই ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এ ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মাথায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে আদালতে এ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

​মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার গোয়াতোলা টাঙ্গাহাটি এলাকার মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়া (১৯)।

​পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় ৫ বছর বয়সী ওই শিশুটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেদিন রাতেই বাড়ির পাশের কংস নদের একটি বাঁকে তল্লাশি চালিয়ে নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাতেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

​এ ঘটনায় গত ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও উল্লিখিত চার যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তনয় সাহার আদালতে হাজির করলে তারা প্রত্যেকেই শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

​নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে পুলিশ দ্রুততম সময়ে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেয়।

​আদালতে চার্জশিট জমার বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি। সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষে আজ বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি। আসামিরা প্রত্যেকেই এই জঘন্য অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তার আলোকেই আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন এই মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারটি দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পায়।

সাখাওয়াত সুমন/আরএআর

বিজ্ঞাপন