রংপুরে এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচণার অভিযোগে মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তার সাকিনের মুক্তি এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেডিকেল মোড়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক করে শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। প্রায় ঘণ্টাখানেক এ অবরোধের কারণে সড়কের দুইপাশে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-সংলগ্ন মেডিকেল মোড়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে অবস্থান নেন কলেজের শত শত শিক্ষার্থী। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে সাকিনের মুক্তির দাবিতে ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই-সাকিন ভাইয়ের মুক্তি চাই’; ‘আমার ভাই জেলে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’; আরপিএমপির মিথ্যা মামলা, প্রত্যাহার কর করতে হবে’; ‘মিথ্যা মামলা গ্রেপ্তার কেন, আরপিএমপি জবাব চাই’; ‘প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার- জবাব চাই জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ একতরফা মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে মেধাবী মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে। অথচ এ অভিযোগের কোনো সতত্যা এখনো পাওয়া যায়নি। শুধু প্রাইভেট টিউটর হওয়ার কারণে হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যু অথবা আত্মহত্যার সঙ্গে সাকিনকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাকিনের গ্রেপ্তারের ছবি প্রকাশ করারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
এ সময় রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. কবির সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের একজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে গেল। তারপর এজাহারের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখালো, এটা হতে পারে না। এজাহার করলেই যে কাউকে তুলে নেওয়া যায়, এটা করা যাবে না। সুষ্ঠু তদন্ত করে তথ্য প্রমাণ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন কথা বলেছে। তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা আজকের মতো শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সাকিনের মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে পুলিশ। যদি এর ব্যতয় ঘটে তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, মেয়েটির আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে, ওই মামলায় পুলিশ সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা এ বিষয়টি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলেছি। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে, এটা চলমান রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিকে ওই মেডিকেল শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, সোমবার (২২ জুন) বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে হোটেল নর্থ ভিউয়ের ছাদের রেলিং থেকে পড়ে নুজশাত জাহানের মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
নুজশাত জাহানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছেন তার পরিবার। এ আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে প্রাইভেট টিউটর শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম। ওই মামলায় নুজশাতের প্রাইভেট টিউটরকে সাকিনকে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে
