নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আদাতলা সীমান্তের ২৪৪/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে আদাতলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাঁধা দেয়। তারা বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছে।
পুশইন চেষ্টার দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মিলেনি কোনো সমাধান। ফলে দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় রয়েছেন ওই ৯ জন। যাদের মধ্যে ৩ জন নারী, ৩ জন শিশু এবং ৩ জন পুরুষ রয়েছেন। বর্তমানে তপ্ত রোদে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন তারা।
এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে বিএসএফের একটি দল এসে বিজিবি সদস্যদেরকে অনুরোধ করে যায়, তাদের কোম্পানি কমান্ডার (সিও) বলেছেন, তারা বাংলাদেশি, তাদেরকে যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিএসএফের এই দাবিতে সাড়া না দিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ভোর রাত থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। খাবার বা পানি কোনো কিছুই তাদের সঙ্গে নেই। খুব মানবেতর অবস্থায় তারা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে ৩টি শিশু আছে। এই তপ্ত রোদের মধ্যে এভাবে থাকলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই সীমান্ত সমস্যার সমাধান যেন দ্রুতই করা হয়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। কাউকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজেপির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মনিরুল ইসলাম শামীম/এএমকে
