ঠাকুরগাঁও সদরে সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। আসামির স্বজন ও সহযোগীদের লাঠির আঘাতে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফকদনপুর কালিতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টের একটি চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সুমনকে (৪২) গ্রেপ্তারের জন্য এএসআই মো. সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে সদর থানার একটি দল অভিযান চালায়। কালিতলা বাজার এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হলে তার স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সুমনের নির্দেশে তার মা পারুল বেগম (৫৫), বোন রানী বেগম (২৩), ময়না (২৫), ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৩২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন এবং সুমনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আহত পুলিশ সদস্যরা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে থানায় জরুরি বার্তা পাঠান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে। এ সময় নারী কনস্টেবলের সহায়তায় সুমনের মা পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সুমনের ভাই-বোনসহ অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যান। মূল আসামি সুমন পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন।
হামলায় গুরুতর আহত এএসআই মো. সারোয়ার জাহান ও কনস্টেবল মো. আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরে আসেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই এএসআই সারোয়ার জাহান বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে অবরুদ্ধ করা, হামলা ও গুরুতর জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে
