বিজ্ঞাপন

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ

মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করেছি

মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করেছি

কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আমরা মাছ চাষে আরও আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করেছি।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের পোনা বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আমরা বর্তমানে মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। রপ্তানি করার মতো আমাদের কিছু উদ্বৃত্ত উৎপাদন রয়েছে, যদিও তা খুব বেশি নয়। আমরা মাছ চাষে আরও আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করেছি। মাছ ও মাংসজাতীয় খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা।

আমি যদি মাছের কথাই বলি, তাহলে মাছকে যে খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে, সেই খাদ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিশ্ববাজারের চাহিদা ও মানদণ্ড অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সেই দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখছেন, আমাদের দেশে বিভিন্নভাবে গবেষণার কাজ চলছে। বিশ্ববাজারে কোন ধরনের মাছের চাহিদা রয়েছে এবং কোন মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা বেশি, তা নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। কারণ, মিঠা পানির মাছের আন্তর্জাতিক বাজার খুব বড় নয়। এশিয়ার কিছু সীমিত দেশ, যেমন চীন, এসব মাছ বেশি খায়। এর বাইরে অন্যান্য দেশে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। তাই আমরা নতুন বাজার তৈরির জন্যও কাজ করছি এবং গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের লক্ষ হলো স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ সরকার সেই লক্ষেই কাজ করছে। এটি সফল হলে, ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই আমরা মাছ রপ্তানি আরও বিস্তৃতভাবে শুরু করতে পারব।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাছচাষিদের রেয়াতি মূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার দাবি যৌক্তিক। তিনি বলেন, এ বিষয়ে চাষিদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার মনে হয়, তাদের দাবি অযৌক্তিক নয়। বরং তারা আরও যৌক্তিক একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য হলো, মাছ চাষ তো কৃষিরই একটি অংশ। তাহলে কেন তাদের বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুতের বিল দিতে হবে? যদি বাণিজ্যিক হার না রেখে কৃষিখাতের মতো সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে তারা সন্তুষ্ট থাকবেন। আমিও মনে করি, এটি যৌক্তিক দাবি। আমি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তাদের দাবির যৌক্তিকতা আমি উপলব্ধি করেছি।

মাছের খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক একটু আগেই আমি এই বিষয়টিই বলছিলাম। এখন শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, আমাদের প্রয়োজন মানসম্পন্ন উৎপাদন। মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদনের জন্য অবশ্যই মানসম্পন্ন খাদ্য প্রয়োজন। আর মানসম্পন্ন খাদ্যের জন্য প্রয়োজন ভালো কাঁচামাল। অর্থাৎ পুরো উৎপাদন শৃঙ্খল, কাঁচামাল, খাদ্য এবং চূড়ান্ত পণ্য, সবকিছুকেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।

আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানের কাঁচামাল, মাছের খাদ্য এবং মাছ উৎপাদন করতে পারি, তাহলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারব। সেখানে যেতে হলে আমাদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব নেই, ভবিষ্যতেও হয়তো থাকবে না। কিন্তু নিরাপদ খাদ্যের অভাব রয়েছে এবং সেটিই ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এই কার্যক্রম পূর্ণগতিতে বাস্তবায়িত হলে আপনার উত্থাপিত সমস্যাগুলোরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠান শেষে বিএফআরআই পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

সাখাওয়াত সুমন/এএমকে