নরসিংদীর পলাশে চোখ বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে সড়কের পাশের ঝোপে ফেলে পালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে একজন মাইক্রোবাসচালক আটক হয়েছেন। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আহত ওই বৃদ্ধকে দ্রুত পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার ভাগদী এলাকার পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আটক মাইক্রোবাসচালকের নাম মনির হোসেন (৪৫)। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আঞ্চলিক সড়কের ভাগদী এলাকার একটি ঝোপের সামনে মাইক্রোবাসটি এসে থামে। অস্বাভাবিক জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ থেমে থাকায় স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে যান। কিছুটা দূর থেকেই তারা দেখেন, চালক মাইক্রোবাস থেকে কিছু একটা ঝোপে ফেলার চেষ্টা করছেন। কাছে গিয়ে দেখেন, মাইক্রোবাসের ভেতরে চোখ বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় এক বৃদ্ধ পড়ে আছেন— তখনও তিনি জীবিত। এ সময় চালককে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন তারা।
খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালককে আটক করে। এর আগে রক্তাক্ত ওই বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আনুমানিক ষাট বছরের এক বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।
পলাশ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নিহত বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দ্রুত এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
আমিনুর রহমান সাদি/আরএআর
