স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। সাধারণত যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় স্বামী কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দিনগত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।
গ্রেপ্তার ওই নারীর নাম সাজেদা আক্তার (২৬)। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী বাজার সংলগ্ন নূর মসজিদ লেন এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহ আলমের মেয়ে। মামলার বাদী তার স্বামী শাকিল আলম।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাকিল আলম তার স্ত্রী সাজেদা আক্তারের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার কার্যক্রম চলাকালে আদালতে অভিযুক্তের উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালতের ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৪ জুন) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কদমতলী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাজেদা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযুক্ত সাজেদা আক্তারকে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে। আদালত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আইনজীবী ইয়াসিন হোসেন বলেছেন, যৌতুক নিরোধ আইন অনুযায়ী কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে এবং আদালত প্রয়োজন মনে করলে নারী বা পুরুষ—উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে মামলার অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
মেহেদী হাসান সৈকত/এসএইচএ
