ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের যুবক মুকুল মালিক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ছহিরুদ্দিনের মেয়ে এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাওকি গ্রামের মুকুল মল্লিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন ও মনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (পলাতক)।
অপরদিকে একই মামলার আসামি ফারুক হোসেন ও মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফিরোজা খাতুনের সঙ্গে মুকুল মালিকের বিরোধ হয়। ওই রাতেই মুকুল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ১৩ আগস্ট গোপীনাথপুর গ্রামের বাঘমারা মাঠের একটি ধানক্ষেতের গর্ত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস হরিণাকুন্ডু থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ রায় দিয়েছেন।
এ বিষয়ে নিহত মুকুলের বাবা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস বলেন, আমি এই রায়ে খুশি নয়। আমি রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবো। আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দেয়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো, যাতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সম্রাট হোসেন/আরএআর
