কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে টানা ১২ দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে আছে তিন যুবকের ভাগ্য। গত ১৪ জুন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ভোররাতে তাদেরকে অবৈধভাবে পুশইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে সীমান্তবাসী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিরোধ গড়ে তুললে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ১২ দিন ধরে জনমানবহীন খোলা প্রান্তরে মানবেতরভাবে দিন কাটছে ওই তিন যুবকের।
বিএসএফও এবং বিজিবি তাদেরকে গ্রহণ না করায় স্বজনদের কাছে ফিরতে পারছে না তারা। বিজিবি থেকে কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠক ও আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই জনমানবহীন খোলা প্রান্তরে পলিথিনের আচ্ছাদনে সময় কাটছে তাদের।
সীমান্তবাসী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রখর রোদের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে তাদেরকে। সাপ, বিচ্ছুর ভয় এবং মশার কামড় খেয়ে ছটফট করছে তারা। স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য কান্নাকাটি করছে। মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে তারা। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় গোসল করতে পারছে না। শৌচাগার না থাকায় প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে না। তারা পুশইনের শিকার তিন যুবককে ফিরিয়ে নিচ্ছে না। আমরা কোনো অবৈধ প্রক্রিয়া মেনে নেব না। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/আরএআর
