বিজ্ঞাপন

সীমান্তে মাদকের থাবা, অভিযানে জব্দ ১১ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

সীমান্তে মাদকের থাবা, অভিযানে জব্দ ১১ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দিনাজপুর সেক্টরের আওতায় সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরের প্রশিক্ষণ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১১ কোটি টাকা মূল্যের এই মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিবির রংপুর রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম। 

এছাড়াও দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান, ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী, ২০ বিজিবি ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান, ৪২ বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈদ হাসানসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাদককে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 

তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, বরং এটি মেধা, নৈতিকতা ও পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট করে জাতীয় উন্নয়নের গতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। মাদক পাচারকারী, ব্যবসায়ী এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। এই অপচেষ্টা রোধে বিজিবি, পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এটি রোধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে। মাদকাসক্তদের বয়কট করার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন ও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি। সবশেষে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান অতিথিরা।

বিজিবি জানিয়েছে, দিনাজপুর সেক্টরের আওতায় জয়পুরহাট, ফুলবাড়ী এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যগুলো জব্দ করা হয়। এসবের মধ্যে ১৩ হাজার ১৯০ বোতল ফেনসিডিল, ৯৭ বোতল ফেনসিগ্রিল, ৩৯৬ বোতল ফেনসিগ্রিপ, ৪ হাজার ৫১১ বোতল ফেয়ারডিল, ১৪৫ বোতল এসকেডিল, ৭৭০ বোতল এমকেডিল, ৮ হাজার ৯৬২ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশি মদ, ৫১৬ দশমিক ৭৫ লিটার দেশি মদ, ৬৭২ প্যাকেট বিদেশি মদ জাতীয় জুস, ২০ হাজার ৪১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬৭ হাজার ৪৬৬ পিস কুপিজেসিক ইনজেকশন, ২৯ হাজার ৮৩০ পিস বিভিন্ন নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ২ হাজার ৪৮ হাজার ৫৯ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ১৪০ গ্রাম কোকেন, ১০ গ্রাম হেরোইন, ৪৫ হাজার ৮৬৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৭ হাজার পিস বুফেরাফিন ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৫৭৫ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ২৪ বোতল আরসিক্যাপ, ০২ বোতল ইউনরেক্স সিরাপ, ৩ দশমিক ৩৭৭ কেজি গাঁজা, এক লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ বোতল বিভিন্ন প্রকার যৌন উত্তেজক সিরাপ, ১ হাজার ২৮৬ বোতল হোমিওপ্যাথিক সিরাপ, ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১১৭ পিস মদ তৈরির ট্যাবলেট, ৭৭৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি এবং ৭ হাজার ২০০ পিস জর্দা। 

ধ্বংসকৃত এসব মাদকদ্রব্যের মূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার ৯২০ টাকা।

চম্পক কুমার/আরএআর

বিজ্ঞাপন