বিজ্ঞাপন

গত ২০ বছরে শহরে আসা শিক্ষকদের গ্রামে ফিরে যেতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

গত ২০ বছরে শহরে আসা শিক্ষকদের গ্রামে ফিরে যেতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, রাজনীতির প্রভাব খাঁটিয়ে সব শহরে চলে আসছে। যারা এইভাবে বিগত ২০ বছর ধরে গ্রামের স্কুল ফাঁকি দিয়ে শহরে আসছে, তাদের সকলকে গ্রামে আবার যেতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আসন্ন এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন,  আমাদের শিক্ষায় অনেক দুর্বলতা রয়েছে। আমাদের শিক্ষক নেই। দেশে ৬৫ হাজার ৫০০ সরকারি বিদ্যালয়। ৬০ হাজার শিক্ষক শর্ট নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলছে। আবার বড় শহরগুলোতে সব অ্যাটাচ হয়ে চলে আসছে। তালিকা করে তাদের সবাইকে স্ব-স্ব স্থানে ফেরত পাঠাবেন। তারপর যদি কোনো ট্রান্সফারের প্রয়োজন হয় আমরা কমিটি করে দিয়েছি, সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। সেই কমিটির সিদ্ধান্তে যদি কেউ অসন্তুষ্ট হন তাহলে আমরা রয়েছি। হঠাৎ করে আমাদের কাছে আসার দরকার নেই।

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয় যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, নকলের কবর আগেই রচনা করেছি। এ বছর থেকে নয়টি বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একক প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যারাই প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত কোনো পোস্ট ফেসবুকে দেবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎক্ষণিক তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, প্রমাণ চাইবেন তাদের কাছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে ঢোকানোর পরেও আগে থেকে কেউ যদি পরীক্ষার হলে বইপত্র রেখে আসে তার দায় শিক্ষকদের। ডিজিটাল নকলের জন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্বে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হতো খাতায় নম্বর বেশি দিয়ে পাস করিয়ে দিতে হবে। এখন থেকে আমরা র‍্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে চেক করবো, কীভাবে মার্কিং করা হচ্ছে, কীভাবে খাতা দেখা হচ্ছে। আমরা ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই সংশোধনী পাস হলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে খাতা চেক করা যাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি চান আনন্দময় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষার সংমিশ্রণ। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি স্কুলে মিড-ডে-মিল দেওয়া হবে এবং এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। শিক্ষার কোনো পর্যায়েই কোনো সেশনজট থাকবে না।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এসএম তৌহিদুজ্জামান। খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ মিলন/আরএআর