বিজ্ঞাপন

শিশুকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি

শিশুকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি

বগুড়া শহরের বেলতলা এলাকায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল আলিম নামের এক মাদরাসাশিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে আটকে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযুক্তকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত আব্দুল আলিম শহরের মালগ্রাম এলাকার বেলতলা জামে মসজিদের ইমাম এবং জামিয়া ইসলামিয়া আল আকাবা মাদরাসার শিক্ষক।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি আব্দুল আলিমের মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর পরিবারের কেউ শিশুটিকে নিতে আসেনি। এই সুযোগে শিক্ষক আব্দুল আলিম শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান।

​পথের মধ্যে একটি গলির ভেতর শিশুটিকে প্রথম দফায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। পরে শিশুটিকে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখান। ​পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আলিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে বাধা দেয় এবং আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।

​বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্দুল মোমিন/এসএইচএ