বিজ্ঞাপন

সদর হাসপাতাল থেকে বের হতেই ৪ খুনে অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু

সদর হাসপাতাল থেকে বের হতেই ৪ খুনে অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদার (২৮) গণপিটুনিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নদীর পাড় এলাকার একটি বাসায় ঢুকে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)।

ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহজনকভাবে থাকা অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, গণপিটুনি দেওয়ায় অন্তরের মাথায় গভীর আঘাত ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। কিন্তু পথে তাকে মৃত অবস্থায় ফেরত আনা হয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ঘাতক একই ভবনে ভাড়া ছিল। পূর্ব পরিচয় থেকেই হয়তো সে এ বাসায় আসে। এরপর সে একই পরিবারের ৪জনকে কুপিয়ে হত্যা করে। একপর্যায়ে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। রানী নামে এক নারী তাকে দেখতে পেয়ে, এখানে আসার কারণ জানতে চায়। এতে সে বলে পানির লাইন ঠিক করতে এসেছে। ঘটনাটি রানীর সন্দেহ হয়। এতে তিনি গেইট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে মানুষজন জড়ো হয়ে বাসা তল্লাশি করে ৪ জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দেন তারা। পরে সেও মারা যায়। তবে কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। ঘটনাটি তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে তিনি।

হাসান মাহমুদ শাকিল/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন