বিজ্ঞাপন

মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

‘আমিতো একটা মানুষকেও বাঁচাতে পারলাম না’

‘আমিতো একটা মানুষকেও বাঁচাতে পারলাম না’

‘একে একে চারটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিল। আমিতো একটা মানুষকেও বাঁচাতে পারলাম না, পাশের বাড়িতে থাকা মানুষগুলোকে বাঁচাতে পারলাম না।’ এভাবেই আক্ষেপ করছিলেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাদের প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী।

আফরোজা বেগম বলেন, ‘বাঁচাও, বাঁচাও শব্দ শুনে বাসা থেকে ছুটে আসি। এসেই জানালায় দাঁড়িয়ে শাহিনুর বেগমকে ডাকতে থাকি। এর মধ্যে বাঁচাও বাঁচাও শব্দও আর শোনা যাচ্ছিল না। কোনো সাড়া শব্দও নেই। অনেকক্ষণ পর আমি দেখতে পাই কে যেন পাকঘরের দিকে যাচ্ছে। ধারণা করি, শাহীনুরের ছেলে সিফাত। সিফাতের নাম ধরে ডাকি, কোনো সাড়া নেই। কিছুক্ষণ পর একটু আড়াল হতেই জানালা বন্ধ করার শব্দ শুনি।’

তিনি জানান, জানালা বন্ধের শব্দ শুনে আবার ফিরে তাকান। দেখতে পান প্যান্ট হাতে এক যুবককে। তাকে এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, পাইপলাইন ঠিক করতে এসেছে। কিন্তু তার পরনের প্যান্ট হাতে থাকায় রানীর সন্দেহ হয়। তিনি ধারণা করেন হয়তো শাহিনুর বাসায় নেই, পাইপলাইনের মিস্ত্রি পরিচয়ে এসে এই যুবক তার মেয়েদের সঙ্গে খারাপ কিছু করেছেন। তিনি বাইরে থেকে গেট আটকে দিয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন।

এরপর প্রতিবেশীরা সবাই মিলে শাহীনুরের বাসায় ঢুকতেই দেখেন রক্তাক্ত মেঝে। এর মধ্যে ওই যুবক বাসার ছাদে উঠে পড়ে। পরে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে তাকে ধরে ফেলে পিটিয়ে হত্যা করে। 

আফরোজা বেগম আরও বলেন, শাহীনুর ভালো মানুষ ছিলেন। তার ছেলে-মেয়েরা মেধাবী ছিল। তার স্বামী কামাল হোসেন সিলভারের হাড়ি-পাতিল ফেরি করে বিক্রি করতেন। ২০১৯ সালে রায়পুরের মোল্লারহাট এলাকায় কাজে গিয়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তিনি মারা যান। আমি তার পরিবারের একটা মানুষকেও বাঁচাতে পারলাম না। 

তিনি আরও বলেন, ভালো মানুষ হওয়ায় শাহিনুরকে সবাই সহযোগিতা করত। তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে, ছেলে সিফাত রায়পুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। পাশাপাশি সে হায়দার এন্টারপ্রাইজে চাকরি করে। মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯) মার্চেন্টস একাডেমিতে পড়ে। 

গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক অন্তর মজুমদারের (২৮) বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকটাকে আমি চিনি না। কখনো দেখিওনি। এই প্রথম দেখলাম। ঘটনার পরই শুনেছি হত্যাকারী নাকি এ ভবনে ভাড়া থাকতো। 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের ভবনে ভাড়াটিয়া শাহীনুর ও তার ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের বাড়ি কুমিল্লায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর গণপিটুনিতে মারা যায়। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। সে রায়পুরে একসময় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিল।

হাসান মাহমুদ/আরকে