খাগড়াছড়ির গুইমারার দুর্গম হাফছড়ি ইউনিয়নের পাইনং পাড়া এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস)-(সংস্কার গ্রুপ) সঙ্গে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফের গুইমারা উপজেলার সংগঠক ঝিমিত চাকমাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। তাকে দ্রুত মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুইমারা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী।
স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাইনং পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ। ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষ জেএসএসের (সংস্কার) সঙ্গে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষের গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইউপিডিএফের গুইমারা উপজেলা সংগঠক হিসেবে পরিচিত ঝিমিত চাকমা গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় সেনাবাহিনী।
গুইমারা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চিকিৎসা শেষে ঝিমিত চাকমাকে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঝিমিত চাকমার নেতৃত্বে গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ঝিমিত চাকমাকে সংগঠনটির গুইমারা উপজেলা সংগঠক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ মারমা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়, পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি পিস্তল এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ইউপিডিএফের চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, একইসময়ে পৃথক ঘটনায় সংগঠনটির দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে তৎকালীন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ গঠিত হয়। সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। তবে সংগঠনটির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সশস্ত্র কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, অপহরণ, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং প্রতিপক্ষের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের কথা বলে আসছে।
মোহাম্মদ শাহজাহান/এএমকে
