সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনীর’ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে সওকত সরদার (৬০) নামে এক বনদস্যু নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও দুইজন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সওকাত সরদার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত এজাহার আলীর ছেলে। গুলিবিদ্ধ রবিউল ইসলাম একই এলাকার মৃত মানিক গাজীর ছেলে এবং ইসরাফিল হাওলাদার (২৭) সাতক্ষিরা জেলার আশাশুনি উপজেলার আটালি বাগালি গ্রামের ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোরে দুই দফায় কোস্টগার্ড দুইজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর মধ্যে সওকত নামের একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। অপর গুলিবিদ্ধ রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে ইসরাফিল নামের আরও একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে আসে পুলিশ সদস্যরা। ইসরাফিল হাওলাদারের ডান হাতের আঙ্গুলে গুলি লেগেছে, আর পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কয়রা থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন কোন বাহিনীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গোলাগুলির ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। বিজ্ঞপ্তিতে মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া-সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী'র সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডের সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চলমান এ অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বাহিনীর পলাতক ডাকাতদের আটকের লক্ষে কোস্টগার্ড কর্তৃক অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান সমাপ্ত হলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
বর্তমানে উক্ত এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, ডাকাতদলের সদস্যরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এবং নিকটবর্তী লোকালয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বিধায় সবাইকে সতর্ক থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এএমকে
