বিজ্ঞাপন

লক্ষ্মীপুরে নিহত মা ও তিন মেয়ের দাফন সম্পন্ন

লক্ষ্মীপুরে নিহত মা ও তিন মেয়ের দাফন সম্পন্ন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে হত্যার শিকার মা ও তিন মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চার কবরে তাদের শায়িত করা হয়।

এর আগে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কে তাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের জানাজায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করে।

নিহত শাহিনূরের ভাসুর আব্দুল বাতেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে লটিয়া গ্রামে দুটি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে মরদেহগুলো আনা হয়। তাদের মরদেহ আনার খবরে দূর-দূরান্ত থেকে শতাধিক মানুষ ছুটে আসেন লটিয়া গ্রামে। অসহায়, হতদরিদ্র পরিবারের চারজনকে একইসঙ্গে জানাজা দিতে এসে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত জনতা। লটিয়া মাঠে রাত ১০টায় তাদের জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাদের মৃত্যুর পর থেকে গোটা লটিয়া এলাকায় শোকের মাতম ওঠে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের ৫তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া এলাকার মৃত কামাল হোসেনের স্ত্রী ও তিন মেয়ে। এই পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত (১৮) ঘরে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। হত্যা করে পালানোর সময় অন্তর মজুমদার নামের এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তিনিও মারা যান। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে শুক্রবার হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

আরিফ আজগর/এএমকে