গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হানিট্র্যাপ চক্রের এক নারীসহ তিন সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। চক্রের হাত থেকে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের সিংজানি (কালিতলা) এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সুন্দইল এলাকার আবু সাঈদ লিমনের স্ত্রী রমীম আক্তার রিপা (২৫), কামারদহ ইউনিয়নের বকশীচর এলাকার মৃত নইবরের ছেলে মোস্তফা (৪৫) এবং গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালুভরা এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শামীম (৩৫) নামের এক যুবককে হানিট্র্যাপে ফেলে টাকার জন্য আটকে রেখে নির্যাতন করেন অভিযুক্তরা। এসময় ফাঁদে পড়া যুবকের চিৎকারে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পায় এবং তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। পরে স্থানীয়রা ভুক্তভোগী যুবকের কাছে সবকিছু শুনে চক্রের সদস্যদের আটক করে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে থানায় নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই যুবক বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আজ শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য রিপা অত্যন্ত কৌশলের সাথে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী যুবককে বাড়িতে ডাকেন। পরে ঘরে নিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয়। এতে আপত্তি জানালে তখন চক্রের অপর দুই সদস্য মোস্তফা ও শহিদুল এসে তার কাছে টাকা দাবি করেন। এসময় টাকা না দিলে মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ফেসবুক ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাতেও ভুক্তভোগী রাজি না হলে তাকে মারধর করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভাড়া বাসায় হানিট্র্যাপে ফেলে এক যুবককে মারধর ও টাকা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটক চক্রের তিন সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য চক্রের সন্ধান ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ
মাসুম বিল্লাহ/এসএইচএ
