বিজ্ঞাপন

রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ নামের একটি অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত ওয়ালটন শোরুমের চতুর্থ তলায় থাকা ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী সাকিব ও তামিম গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি- হামলায় তাদের হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

এ ছাড়া, হামলাকরীরা অফিস থেকে নগদ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মুরাদ পারভেজ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাসেল ও আশিক নামের দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার রাতে একদল দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে নওহাটা কলেজ মোড়ের ‘ম্যাংগো লাভার’ কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা সিসি ক্যামেরা কম্পিউটার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

হামলার সময় অফিসে কর্মরত সাকিব ও তামিম বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাদের লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এই ঘটনায় রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুরাদ পারভেজ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাসুদ পারভেজ। মাসুদ পারভেজের দাবি- তিনি ভবনের নিচের গেটে অবস্থান করে লোকজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি কাউকে ওপরে উঠতে দেননি এবং নিজেও ওপরে যাননি।

ম্যাংগো লাভারের স্বত্বাধিকারী মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করেছে। এ ছাড়া, দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার আসবাব নষ্ট করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলাকারী কার্যালয়ে উঠে তাণ্ডব চালান। তার দুই কর্মচারীকে গুরুতর আহত করেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি নিজে সরে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুরাদ পারভেজ জানান, অনলাইনে আম বিক্রি করেই তার জীবিকা নির্বাহ হয়। হামলাকারীরা তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পবা থানার টহল দলের উপপরিদর্শক (এসআই) আসিব নাসিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সেখানে দুটি ল্যাপটপ তারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। একটি টি-টেবিল ভেঙে যাওয়ায় কাচের টুকরা ছড়িয়ে ছিল।

তার প্রাথমিক ধারণা, ধস্তাধস্তি ও মারামারির সময় এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

শাহিনুল আশিক/এএমকে