বিজ্ঞাপন

কীর্তনখোলায় পর্যটন বোট ‘কুইন অব উলানিয়া’র যাত্রা শুরু

কীর্তনখোলায় পর্যটন বোট ‘কুইন অব উলানিয়া’র যাত্রা শুরু

বরিশালের নদীকেন্দ্রিক পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে কীর্তনখোলা নদীতে যাত্রা শুরু করেছে কাঠ ও বাঁশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল পর্যটন বোট ‘কুইন অব উলানিয়া’।

স্থানীয় সংস্কৃতি ও নদীভিত্তিক পর্যটনের বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত এই নৌ-তরীকে সম্ভাবনাময় সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে কীর্তনখোলা নদীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বোটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। উদ্বোধনের পর তিনি বোটে চড়ে নদী ভ্রমণ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, সরকার পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করতে ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ ধারণার আদলে ‘সাংস্কৃতিক গ্রাম’ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষে বরিশাল ও ঝালকাঠির মৃৎশিল্প, পাটি শিল্প এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে পরিকল্পনা ইতোমধ্যে এডিবিতে পাঠানো হয়েছে। ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাগান এবং বরিশাল-ভোলার নদ-নদীকে ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ‘কুইন অব উলানিয়া’ সেই সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

বোটটির স্বত্বাধিকারী সৈয়দ রাজিউর রহমান চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালের ২৭ জুন কুষ্টিয়া থেকে ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকাটি সংগ্রহ করা হয়। পরে দীর্ঘ সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল এটি চলাচলের উপযোগী করা হয়। নৌ-তরীর অভ্যন্তরের প্রায় সবকিছুই কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়া বজায় থাকে।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু পর্যটন বোট হিসেবে নয়, দুর্গম চরাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতেও ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই নৌ-তরীর মাধ্যমে মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু ক্যাম্প, কিডনি ক্যাম্পসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, এই নৌ-তরীকে কাজে লাগিয়ে সরকার শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও নদীভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে ‘কুইন অব উলানিয়া’ কীর্তনখোলা নদীতে এক মনোরম ভ্রমণ সম্পন্ন করে। পরে বোটটি বরিশাল নদীবন্দরে ফিরে আসে।

নদীমাতৃক বরিশালে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিক পর্যটনের সমন্বয়ে নির্মিত ‘কুইন অব উলানিয়া’ ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা।

এএমকে

বিজ্ঞাপন