বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকের ব্যাগে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ মিড-ডে মিলের ডিম ও রুটি পাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তাদের নজরে আসে। এরপর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিক রেশমা আক্তার মিষ্টি বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটকে তার ব্যাগ তল্লাশি করেন। এ সময় ব্যাগ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দের দুই ডজন ডিম ও ২২টি রুটি উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই প্রধান শিক্ষিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে প্রথমে ব্যাগ দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষিক। পরে তাদের চাপে ব্যাগ খুলে দিলে সেখান থেকে সরকারি বরাদ্দের ডিম ও রুটি বেরিয়ে আসে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার আত্মসাতের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিক রেশমা আক্তার মিষ্টি বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জেরেই আমার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
এএমকে
