মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ছেলের কুড়ালের আঘাতে সুলতান মিয়া (৭০) নামে এক বাবা প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের মন্ত্রীগাও এলাকায় মধ্যরাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও শনিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার পর নিহতের ছেলে ঘাতক ফয়েজ মিয়া (২৭) পালিয়ে যান।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুলতান মিয়া পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তার ছয় ছেলে ও দুই মেয়েসহ মোট ৮ জন সন্তান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফয়েজ মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি গত ২৪ জুন প্রবাস থেকে দেশে আসেন। প্রবাস থেকে আসার পর থেকে বসতঘর নিয়ে তার বাবার সাথে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে সুলতান মিয়ার সাথে তার ছেলে ফয়েজ মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা কুড়াল দিয়ে বাবার মাথার পিছনে আঘাত করেন ফয়েজ। এতে সুলতান মিয়া গুরুতর আহত হন।
পরে ফয়েজ মিয়াসহ স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলতান মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল বাবার মরদেহ রেখে অভিযুক্ত ফয়েজ মিয়া পালিয়ে যান। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা রাতে পুলিশকে না জানিয়ে গোপন রাখেন। শনিবার দুপুরের দিকে সুলতান মিয়ার ছেলেরা জুড়ী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে থানার ওসি তদন্ত আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিহত সুলতান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ছেলে শাহেদ মিয়া বাদী হয়ে এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ছেলে ফয়েজ মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এসএইচএ
