বিজ্ঞাপন

জনবল সংকটে ধুঁকছে বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল, গুরুতর রোগী এলেই রেফার

জনবল সংকটে ধুঁকছে বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল, গুরুতর রোগী এলেই রেফার

জনবল সংকট, চিকিৎসকের অভাব, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আইসিইউ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং গুরুতর কোনো রোগী এলে তাদের স্থানান্তর করতে বলা হয় খুলনা বা ঢাকায়। এসব সমস্যায় জর্জরিত বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

রোববার (তারিখ অনুযায়ী) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দেখা যায়, সদর উপজেলার বৈটপুর থেকে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ছুটে এসেছেন হালিমা বেগম। তার দাবি, চেয়ার থেকে পড়ে অচেতন হয়ে যাওয়া বাবাকে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক স্ট্রোক হয়েছে বলে খুলনায় রেফার করেন। তবে রোগীকে যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত রোগী আসেন বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে। কিন্তু জনবল সংকট, রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং বিদ্যমান যন্ত্রপাতির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার না হওয়ায় সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। গুরুতর রোগীদের অধিকাংশকেই খুলনা বা ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেন। ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায়ই ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ থাকে। হাসপাতালে ৮৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২৭ জন। দীর্ঘদিন ধরে কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, ডেন্টাল ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। মোট ২৮৩টি পদের মধ্যে ১১৫টি বর্তমানে শূন্য।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে হাসপাতালের ১০ শয্যার আইসিইউ বন্ধ রয়েছে। ২০১৯ সালে করোনা মহামারির সময় বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের আওতায় আইসিইউটি চালু হলেও প্রকল্প শেষ হওয়ার পর দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবে সেটি আর সচল রাখা যায়নি।

সেবা নিতে আসা শেখ আছাদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বাথরুম অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশে তিনি অসুস্থ বোধ করেন।

রোগীর স্বজন মাইনুল শেখের অভিযোগ, হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহার করা হয় না। পরিবর্তে রোগীদের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজন জানান, আইসিইউ থাকা সত্ত্বেও সেটি বন্ধ থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত খুলনা বা ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে দরিদ্র পরিবারের মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তারা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু এবং আইসিইউ দ্রুত সচলের দাবি জানান।

এদিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলা মোটরসাইকেল পার্কিংয়ে পরিণত হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো রোগীকে রেফার করা হয় না। যাদের চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়, শুধু তাদেরই উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়েও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের সংকটের কারণেই আইসিইউ চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখনো ১০০ শয্যার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ পাওয়া যায়। সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এসএইচএ

বিজ্ঞাপন