মৃত্যুর পরও মেলেনি শান্তি। পারিবারিক কবরস্থানে বাবার মরদেহ দাফন করতে গিয়ে প্রতিবেশীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা। হামলায় মৃতের ছেলে ও মেয়েসহ অন্তত পাঁচজন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের দইয়া মাঝির নতুন বাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. নুরুল ইসলাম (৫৬)। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন ভোরে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবর খনন করতে যান মো. ওসমান গনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। ওই সময় প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা কবরস্থানের জায়গাটি নিজেদের দাবি করে হঠাৎ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। তারা কবর খননে তীব্র বাধা দেন।
পরিবারের সদস্যরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে প্রতিবেশীরা প্রকাশ্যেই ওসমান গনি ও তার বোন নার্গিস আক্তারের (৪০) ওপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। বোনকে বাঁচাতে স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। হামলায় ভাই-বোনসহ পাঁচজন গুরুতর জখম হন। ঘটনার সময় নার্গিস আক্তারের গলার স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাবার মরদেহ দাফনে বাধা ও হামলার ঘটনায় গত ২২ জুন আহত মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা মামলা রুজু করেছি। মামলার অন্যতম আসামি নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।’
আতিকুল হা-মীম/এসএইচএ
