বিজ্ঞাপন

উৎসবের বাজারে স্বস্তি

ব্যবসায়ীদের দাম কমাতে উদ্বুদ্ধ করে নতুন দৃষ্টান্ত চট্টগ্রামের ডিসির

ব্যবসায়ীদের দাম কমাতে উদ্বুদ্ধ করে নতুন দৃষ্টান্ত চট্টগ্রামের ডিসির

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে ‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ স্লোগানে চট্টগ্রামে যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যবসায়িক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক নতুন সংস্কৃতির সূচনা করেছে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের পর শনিবার (২৭ জুন) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ব্যবসায়ীদের পণ্যমূল্য কমাতে উৎসাহিত করার এই ধারা শুধু চট্টগ্রামে নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সম্ভবত এই প্রথম ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম কমানোর জন্য সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই উদ্যোগের পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন সুপারমার্কেট ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পণ্যমূল্যে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছিল। খুলশি মার্টের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান ৮৩টি পণ্যে ৫ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিয়েছে। একইভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও জনস্বার্থে পণ্যের দাম কমিয়েছে।

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আবু হায়দার বলেন, ‘এই প্রথম বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের সম্মাননা দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবসায়ীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিল।’

বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের নেওয়া নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আইন প্রয়োগের চেয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম এটিকে ভবিষ্যতের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।’

ডিজিএফআইয়ের উপ-পরিচালক নরুল হক এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার ইমরান হোসেন খাতুনগঞ্জের আদার সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা জানান, কাস্টমস দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ৪১টি কনটেইনারের আদা বাজারে আসে, যা সারা দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ক্ষমতা কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে কোনো ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা যায় না। একটি সংস্কৃতি তখনই টিকে থাকে, যখন মানুষ সেটিকে মূল্যবোধ দিয়ে ধারণ করে।’

তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে উৎসব মানেই মূল্যছাড়, অথচ বাংলাদেশে উৎসব এলেই বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতাকে বদলে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানকার ব্যবসায়ীরা আবারও প্রমাণ করেছেন, তারা কোনো সিন্ডিকেট সংস্কৃতির প্রতিনিধি নন। তারা মূল্যবোধকে ধারণ করেন এবং ব্যবসাকে একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।’

অনুষ্ঠানে ফেস্টিভ সেল কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখায় ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রামে শুরু হওয়া এই মূল্যবোধভিত্তিক ব্যবসায়িক সংস্কৃতি সারা দেশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আতিকুল হা-মীম /এসএইচএ

বিজ্ঞাপন