বিজ্ঞাপন

বছরের পর বছর ভাঙাচোরা দশানী-রামপাল সড়ক, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

বছরের পর বছর ভাঙাচোরা দশানী-রামপাল সড়ক, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

বাগেরহাটের দশানী-রামপাল আঞ্চলিক মহাসড়ক নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই স্থানীয় বাসিন্দাদের। ভয়াবহ ভোগান্তিতে রয়েছেন যানবাহন চালকরাও। বছরের পর বছর পার হলেও কচ্ছপগতিতে চলছে এ সড়কের সংষ্কার কাজ।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টেন্ডার শেষে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে ৩৪ কিলোমিটার রাস্তা পুনর্নির্মাণের কার্যাদেশ পায় তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে দুই অংশের কাজ শেষ হলেও দশানী থেকে রামপাল ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি মাহাবুব ব্রাদার্স। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশও বাতিল করেছে সড়ক বিভাগ।

গত রোববার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দশানী থেকে ডেমা এলাকা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের পুরোটি ভাঙাচোরা। ছোট-বড় গর্ত অসংখ্য যা গুণে শেষ করা অসম্ভব প্রায়। এমন অবস্থার মধ্যেই যাত্রীবাহী রিকশা, ইজিবাইক, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন চলছে। প্রায়ই এই সড়কে আটকে যায় ভারী ট্রাক, কখনও ভেঙেও পড়ে। সড়কের দুই পাশে রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্কুল। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

কাড়াপাড়া গ্রামের রাজু আকুঞ্জি নামের এক পান ব্যবসায়ী বলেন, আমার প্রতিদিন পান নিয়ে হাটে যেতে হয় সকাল ৬টার মধ্যে। অতিরিক্ত রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। মাঝেমধ্যে গাড়ির চাকাও ভেঙে যায়। দুই তিন বছর ধরে শুনছি রাস্তা ভালো হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কিছুই হয়নি।

নিয়মিত এই রাস্তুায় ইজিবাইক চালান মো. এনায়েত। তিনি বলেন, সকালে রাস্তায় নামতেই মনে হয় দুনিয়াতে জাহান্নামের রাস্তা এটা। গাড়ি এমনভাবে গর্তে পড়ে ঝাঁকি খায়, সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এই সড়ক থেকে সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে যেতে হয় ডেমা ইউনিয়নের বাসিন্দা শুভ শেখকে। শুভ জানান সবথেকে ভয়ের কারণ হয় যখন ইজিবাইকের চাকা বড় গর্তে পড়ে। গাড়ি এক দিকে হেলে যায়। মনে হয়, এই বুঝি উল্টে যাবে। আবার ভাড়াও দ্বিগুন দিতে হয়।

ধুলাবালির কারণে দোকান খোলা রাখতে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। কাড়াপাড়া বাজারের দোকানদার সাধন সাহা বলেন, ক্রেতারা আসতে চান না দোকানে। বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি আমরা। তিনি আরও বলেন, রাস্তায় ছোট ছোট পাথরের খোয়া দিয়ে রেখেছে, গাড়ির চাকার নিচে পড়ে মাঝে মধ্যে ছিটকে আসে দোকানের ভিতরে। ভয়ে থাকি কখন যেন এসে চোখে মুখে লাগে।

তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দিন পনেরো আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আমার দোকানের সামনে রাস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের চাকা থেকে ছিটকে আসা পাথর লাগে তার মাথায়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

একই এলাকার জেমিস মল্লিক বলেন, রাস্তা অতিরিক্ত খারাপ হওয়ায় কারণে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে অনেক সময় লাগে। এতে রোগীর অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ে।

তার কথার সূত্র ধরে কথা হয় জেলা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. তৈয়বের সাথে। তিনি বলেন, এই সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে, রাস্তার ঝাঁকিতে গাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়। অনেক সময় রোগীর মৃত্যুও হয়।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, দশানী থেকে রামপাল রাস্তাটি ৩৪ কিলোমিটার। অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু দশানী থেকে হেলাতলা পর্যন্ত যে ১০ কিলোমিটার রাস্তা সেটি এখনো হয়নি। মাহাবুব ব্রাদার্স এর চুক্তি বাতিল করে রিটেন্ডার দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত কাজ শেষ হবে।

এসএইচএ

বিজ্ঞাপন