পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামে গৃহবধূ পাপিয়া খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রবাসী স্বামী হুমায়ুন কবীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শহরের আব্দুল হামিদ রোডে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে নিজের মেজো ভাবিসহ অন্যান্য মেয়েদের সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হুমায়ুন। সৌদি প্রবাসী হওয়ায় বিভিন্ন সময় বৈধ-অবৈধ ভিসা বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে যান হুমায়ুন। টাকা-পয়সা দিয়ে সকল কুকর্ম ধামাচাপা দিয়ে রাখেন তিনি। সম্প্রতি নিজ এলাকার ১৭-১৮ বছরের একটি মেয়ের সঙ্গে নিজ কক্ষে ধরা পড়েন হুমায়ুন। তাকে বিয়ের জন্যই স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। হুমায়ুন ওই মেয়ের নামে এক বিঘা জমিও লিখে দিয়েছেন বলে দাবি করেন স্বজনরা।
মানববন্ধনে নিহত পাপিয়ার চাচা আব্দুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাপিয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। ঘটনার আগে বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতো বড় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটার পরও পুলিশ প্রশাসন হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করছে। পুলিশ এক পক্ষের হয়ে কাজ করছে। অবলিম্বে যদি হুমায়ুনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে থানা ও এসপি অফিস ঘেরাও করা হবে।
মানববন্ধন ও সমাবেশে নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ শেখ, চাচা আব্দুল আজিজ, আসলাম হোসেন, ভাই মিলন শেখসহ শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন।
মামলা না নেওয়ার বিষয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অলরেডি এ ঘটনায় দুটি গ্রুপ হয়ে গেছে। মেয়ের পরিবার মামলা দিতে চাচ্ছে। আবার অভিযুক্ত হুমায়ুনের দুই সন্তানের দাবি- বাবা নির্দোষ, কোনো মামলা দেওয়া যাবে না। এজন্য আমাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জেনে হত্যা মামলা নেওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাপিয়া খাতুনের (৩৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওয়াশিন মেশিন দিয়ে কাপড়চোপড় ধুয়ে বাড়ির ছাদের ওপর শুকাতে দেন পাপিয়া। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় মেয়ের পরিবার। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং স্বামী হুমায়ুন কবীরকে হেফাজতে নেয়।
আরএআর
