ঘণ্টা বেজেছে স্কুলে, সকাল সকাল ব্যাগ কাঁধে এসেছে শিক্ষার্থীরা। এসেছে ফাতেমা আক্তার শিফার (৯) সহপাঠীরাও। কিন্তু সবার মাঝে শিফাকে দেখা যায়নি। কারণ শিফা ক্লাসে ফেরেনি। ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শিফা এখন না ফেরার দেশে। শ্রেণিকক্ষে তার বসার স্থানটি পড়ে আছে শূন্য। সেই শূন্যতা আর কখনো পূরণ করতে আসবে না সে। কারণ সে শুয়ে আছে একই সঙ্গে নিহত মা শাহিনুর বেগম (৩৮), দুই বোন সায়মা আক্তার (২১) ও নাফিসা আক্তারের (১৭) সঙ্গে পাশাপাশি কবরে। তার শূন্যতা অনুভব করছে শিক্ষকসহ সহপাঠীরা।
সিফা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মার্চ্চেন্টস একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার রোল ছিল ১৪। ঘটনার দিন সে বিদ্যালয়ে আসেনি। শিক্ষক-সহপাঠীরা তার মৃত্যু এখনো মেনে নিতে পারছে না। তাদের বিশ্বাস- যদি ঘটনার দিন শিফা বিদ্যালয়ে আসতো, তাহলে অকালে তার মৃত্যু হতো না। যেদিন সে বিদ্যালয়ে আসেনি, সেদিনই ঘাতকের অস্ত্রের আঘাত প্রাণ হারালো।
শুক্রবার (২৭ জুন) শিফার বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল সকাল নামে এক বান্ধুবীর বাসায়। ক্লাসে আসা সকাল বলে, শিফা আর আমি ক্লাসে একসঙ্গে বসতাম। বুধবার তার সঙ্গে শেষ কথা হয়। বৃহস্পতিবার আমার বাসায় আসবে বলেছিল। কিন্তু আমি বলেছি শুক্রবার আসতে। ঘটনার দিন সে আর স্কুলে আসেনি, তার সঙ্গে দেখাও হয়নি, আর হবে না তার সঙ্গে কথা।
সহপাঠী হাসিব বলে, শিফা ভালো ছাত্রী ছিল। তার জন্য সবাই কষ্ট পাচ্ছে। ক্লাসে এসে তার শূন্যতা অনুভব করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম মাহমুদ বলেন, শিফা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতো। কখনো অযথা ছুটি কাটাতো না। কিন্তু ঘটনার দিনই সে আসলো না। যদি সকালে বিদ্যালয়ে আসতো, হয়তো তাকে প্রাণ দিতে হতো না। সিফা ও তার পরিবারের জন্য আমরা বিদ্যালয়ে দোয়ার আয়োজন করেছি। সিফার বড় দুই বোন এবং বর্তমানে জীবিত থাকা ভাই সিফাতও একসময় এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

ঘটনার দিন সকালে কাজে বের হয়ে যাওয়ায় বেঁচে যায় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত। শুক্রবার (২৬) অজ্ঞাতদের আসামি করে সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মামলা করে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে সিফাত বলে, আমার মা ও তিন বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধানহাটা-নদীর পাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারকে (২৮) গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। অন্তরের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।
হাসান মাহমুদ শাকিল/আরএআর
