গাইবান্ধা সদর উপজেলার জাফলং রেস্তোরাঁয় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রেস্তোরাঁটিতে আগুন দেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রেস্তোরাঁকর্মী আমির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
তবে রেস্তোরাঁটি আগুনে পোড়ানোর ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেছেন মালিক মানিক মিয়া। তার দাবি, একটি মহল কয়েক দফায় চাঁদা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে রেস্তোরাঁটি পুড়িয়ে দিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ঘটনার চার দিন পর গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে গত ২৪ জুন দুপুরে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ভেড়ামারা বাঁধ সংলগ্ন নদীর তীরে অবস্থিত জাফলং রেস্তোরাঁটিতে আগুন দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মানিক মিয়া জানান, ২০২৪ সালে রেলওয়ের কাছ থেকে জায়গাটি লিজ নিয়ে তিনি রেস্তোরাঁটি স্থাপন করেন। পরিচালনার দায়িত্ব দেন আমির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে।
তিনি অভিযোগ করেন, রেস্তোরাঁ চালু হওয়ার পর থেকেই প্রভাবশালী একটি মহল বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে আসছিল। অস্বীকৃতি জানানোর পর ওই চক্রের ইন্ধনে একদল লোক মিথ্যা অভিযোগ তুলে সেদিন প্রথমে লুটপাট এবং পরে রেস্তোরাঁটিতে আগুন দেয়।
মানিক মিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অপরাধ করে থাকলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক— সেটা আমিও চাই। কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠান কেন পোড়ানো হলো?
তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে রেস্তোরাঁটি গড়ে তুলেছিলেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধের সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গত ২৪ জুন দুপুরে স্থানীয় জনতা রেস্তোরাঁটিতে আগুন দেন। ঘটনাস্থল থেকে কর্মচারী আমির উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করলে পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আমির উদ্দিন (৪০) সদর উপজেলার দাঁড়িয়াপুর এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে।
মাসুম বিল্লাহ/আরএআর
