বিজ্ঞাপন

২০ টাকার ঝালমুড়ির জন্য যুবককে ছুরিকাঘাত

২০ টাকার ঝালমুড়ির জন্য যুবককে ছুরিকাঘাত

কিশোরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় মোহাম্মদ আমিন (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের নধার বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত মোহাম্মদ আমিন সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের নধার গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতা সোহেল (৩১) একই গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে আমিন তার বন্ধু মোবারককে সঙ্গে নিয়ে একই এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা সোহেলের দোকানে যান। সেখানে দুইজন ঝালমুড়ি খাওয়ার পর আমিন সোহেলকে জানান, তিনি পরে ২০ টাকা পরিশোধ করবেন। তবে সোহেল তাৎক্ষণিক টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এসময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন আমিনের বন্ধু মোবারক। তিনি নিজের কাছ থেকে ঝালমুড়ির ২০ টাকা পরিশোধ করে দেন। কিন্তু টাকা পরিশোধের পরও আমিন ও সোহেলের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা চলতে থাকলে একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল তার কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি বের করে আমিনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।

ছুরিকাঘাতে আমিন গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে  শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ চিৎকার শুনে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি আমিন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এমন একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আহতের বড় ভাই আল আমিন বলেন, মাত্র ২০ টাকার ঝালমুড়ির টাকা নিয়ে আমার ভাইয়ের ওপর এমন নৃশংস হামলা করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। আমরা হামলাকারীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সাখাওয়াত হোসেন/আরকে

বিজ্ঞাপন