বিজ্ঞাপন

জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ : কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তার বদলি

জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ : কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তার বদলি

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় গাছের চারার সঙ্গে বিতরণ করা ৪ টাকা কেজি দরে জৈব সার নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে তাকে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ২ জুলাই থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।

এর আগে ২৪ জুন কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণের পাশাপাশি প্রতিটি চারার সঙ্গে ৩০ কেজি করে জৈব সার দেওয়া হয়। তবে সার বিতরণের সময় কয়েকজন কৃষক বস্তা খুলে তাতে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত উপাদান দেখতে পাওয়ার অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনায় অনেকেই সার না নিয়ে শুধু চারা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং যেসব বস্তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে সেগুলো পরিবর্তন করে মানসম্মত সার সরবরাহের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের আশ্বস্ত করেন, বিতর্কিত সার গ্রহণ করতে হবে না এবং প্রয়োজন হলে সরবরাহ করা সব সার ফেরত পাঠিয়ে নতুন করে ভালো মানের সার এনে বিতরণ করা হবে। জানা গেছে, এ সারের কোনো বিলও এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি।

এদিকে জৈব সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ওয়ান অ্যাগ্রোর মালিক মো. রেজওয়ান কৃষি কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক বার্তায় ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এক সঙ্গে সারাদেশে প্রায় ৪৫০ টন ডি-কম্পোস্ট লোড করার বিশাল একটি চাপ ছিল। প্রতিটি উপজেলা থেকে স্যারেরা অনেক তাড়াহুড়ো করছিলেন। একা হাতে পুরো বিষয়টির তদারকি করতে গিয়ে আমার অনভিজ্ঞতার কারণে একটু হিমশিম খেতে হয়েছে। তাড়াহুড়োর মধ্যে গণনার বাইরে ভুলবশত কিছু রিজেক্ট বস্তা আপনার ওখানে চলে গেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি সত্যিই লজ্জিত এবং আপনার কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হাসান/আরকে

বিজ্ঞাপন