বিজ্ঞাপন

বাড়ছে তিস্তার পানি, প্লাবিত লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল

বাড়ছে তিস্তার পানি, প্লাবিত লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল

বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। ক্রমেই বাড়ছে পানিবন্দির সংখ্যা।  

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয়। এসময় পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করলেও ঘণ্টা না পেরোতেই সকাল ১০টার দিকে তা বেড়ে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশর ডালিয়া পয়েন্টের পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কয়েকদিন ধরে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলেও বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন সর্বপ্রথম বিপদ সীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। যা পরদিনই বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। আবার ২৮ জুন রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে চলতে থাকে, ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সময় শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্রমে বাড়ছে পানিবন্দির সংখ্যা। 

ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। 

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদী তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘ দিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে এসবে জরুরি মেরামত দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে। অথচ শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো যেমন পাকাপোক্ত হবে, তেমনি নদী ভাঙন আর বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেত। 

গোবর্দ্ধন গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। পানি চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষরা আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। চারদিকে পানি আর পানি। 

নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের নাজিমুদ্দিন বলেন, চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর অসুস্থদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝে সাপ-পোকার ভয় তো থাকেই। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েছে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে। এ কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্য দেখা দিতে পারে। বন্যা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে রোববার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বেড়ে যায়। কাল সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। আজকে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে তাই বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানি বৃদ্ধির চাপ।

আরকে

বিজ্ঞাপন