শরীয়তপুরে একটি পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ বন্ধ করে উঁচু দেওয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ফলে প্রায় দেড় বছর ধরে পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদের প্রতিদিন বাঁশের মই বেয়ে দেওয়াল টপকে বাড়িতে প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানের (৬০) বাড়ির একমাত্র যাতায়াতের পথ জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছেন প্রতিবেশী ইসমাইল ছৈয়াল ও তার পরিবারের সদস্যরা। রাস্তার ওপর দেওয়াল নির্মাণের পাশাপাশি একটি বাথরুমও তৈরি করায় পথটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এতে বাড়িতে যাতায়াতের অন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন মই ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে।
পরিবারটির দাবি- প্রায় দেড় বছর ধরে জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিশু থেকে শুরু করে নারী ও বয়স্ক সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেওয়াল টপকে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে ব্যবহৃত তাদের একমাত্র যাতায়াতের পথটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত পথটি উন্মুক্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দেড় বছর ধরে আমাদের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে রেখেছেন ইসমাইল ছৈয়াল। বাধ্য হয়ে বাঁশের মই ব্যবহার করে বাড়িতে ঢুকতে ও বের হতে হচ্ছে। আমরা চাই ইউএনও মহোদয় বিষয়টি তদন্ত করে আমাদের চলাচলের পথটি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ স্বীকার করে ইসমাইল ছৈয়াল বলেন, আমি আমার জায়গা দিয়ে তাদের যেতে দেব না। তাই পথটি বন্ধ করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। উভয়পক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নয়ন দাস/আরএআর
