পঞ্চগড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে কেক কাটা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আসামি সাবেক মেজর কাজী মৌসুমী ও জেলা যুবলীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুন) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মেজর কাজী মৌসুমী ও নিলুফার ইয়াসমিন। শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সাবেক মেজর কাজী মৌসুমী পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। নিলুফার ইয়াসমিন জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তাকে এক নম্বর এবং সাবেক মেজর কাজী মৌসুমীকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় মোট ১১০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার আদালতে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং অর্থায়নের অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলায় পরবর্তী লড়াই অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গোপনে পরিচালনার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় সদরে সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান মুক্তার একটি খামারবাড়িতে দলের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। সেখানে কেক কাটা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় আদালতের সামনে তুলে ধরে জামিনের বিরোধিতা করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
নুর হাসান/এসএইচএ
