নড়াইলে অফিসে ঢুকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে (৩৫) মারধরের অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) রাতে ছাত্রদল নেতা মো. জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন ওই মৎস্য কর্মকর্তা।
অভিযুক্ত জিসানুর রহমান জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায়।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে জিসানুর রহমান নামে ওই ছাত্রদল নেতা মাঝে মধ্যেই অফিসে এসে গোপনীয় বিভিন্ন তথ্য চায়। তার চাহিদা অনুযায়ী অফিসের গোপনীয় তথ্য প্রদান না করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সর্বশেষ গতকাল রোববার বিকেল ৩টার দিকে ৪-৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত জিসানুর রহমান। এ সময় তিনি সকল সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন। পূর্বেও এ তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে, সেটা বলা হলে অভিযুক্ত জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর করেন এবং সরকারি ডেস্কটপ ও মনিটর ভেঙে ফেলেন।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, জিসানুর রহমান বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কার্যালয়ে এসে ঝামেলা করছেন। তিনি প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি করেছেন, কিন্তু যেকোনো বরাদ্দ একটি কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়। এখানে কোনো বরাদ্দই আমার দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি এসে অহেতুক ঝামেলা করেন। আর সর্বশেষ তিনি আমার অফিসে এসে ভাঙচুর ও মারধর করে গেছেন। আমি থানায় মামলা করেছি।
তবে জিসানুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামের কৃষক শ্রেণির লোকজন নিয়েই আমাদের ওঠাবসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজে যেতে হয়। মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে কোনো তথ্যের জন্য গিয়েও সেটা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। বরং তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাড়িয়ে দেন। তার অফিসের কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিলেও তার ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে কিছু তথ্যের জন্য গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে মৎস্য কর্মকর্তা রায়হান অকারণে গালিগালাজসহ অশালীন আচরণ করেছেন। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব দেখান। তার অপেশাদার আচরণ, গালিগালাজসহ সব আমি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করি। তিনি তার চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ফোন হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ সময় আমাকে মারধর করলে আমি নিজে বাঁচার চেষ্টা করি। ধস্তাধস্তির সময় তার নিজের হাতের ধাক্কায় কম্পিউটার নিচে পড়ে ভেঙে যায়। তারা অফিসের বেশ কয়েকজন মিলে আমাকে মেরেছে। মারধরের পর মামলা দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। এখন শুনলাম আমার নামে মামলা করছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আমরা ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। আসামি ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
আরএআর
