কুমিল্লায় মাদক কারবারি নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্কুলছাত্র ইথার আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধের ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার। এর আগে রোববার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নগরীর কাটাবিল এলাকার মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে আসিফ (২৬), একই এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে আশিক (৩৫) এবং মো. ইকবালের ছেলে ইমন (১৯)।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৪ জুন (বুধবার) রাত থেকে কাটাবিল এলাকায় মাদক কারবারিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এর জের ধরে গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় ঘটে। এসময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির পথচারী শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের বাবা ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশের তৎপরতায় ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত জামসেদ হোসেন শ্রাবণকে (২২) ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড তাজা বুলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত আরও ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ওই ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত অপুসহ জড়িত অন্যদের সবাইকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাপস চন্দ্র উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ আজগর/এসএইচএ
